রাশিয়ার অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী ম্যাক্সিম রেশেতনিকভ। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের (এসপিআইইএফ) এক আলোচনায় সম্প্রতি এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেন। খবর আরটি।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে মস্কো, যার লক্ষ্য রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
প্রতিবেদন অনুসারে, এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশটির অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় অগ্রগতি দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার জিডিপি ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশে। ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।
ম্যাক্সিম রেশেতনিকভের মতে, বর্তমানে রুশ অর্থনীতিতে শীতল বা ধীর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়িক মনোভাব ও চলমান সূচকগুলো বলছে, রাশিয়া মন্দার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
তবে মন্ত্রী এও বলেন, ‘মন্দা অনিবার্য নয়। এটি এড়ানো যাবে কিনা তা মূলত নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর, বিশেষ করে সুদহার কী হবে সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।’
এদিকে রাশিয়ার অর্থনীতির বর্তমান অবস্থাকে ‘শীতল’ অভিহিত করে দেশটির অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ বলেন, ‘মনে রাখবেন শীতের পরই গ্রীষ্ম আসে।’
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা জানান, একসময় রাশিয়ার অর্থনীতি অতিরিক্ত গতিতে সম্প্রসারণ হলেও এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। ওই সময় চাহিদা অনেক বেড়েছিল, কিন্তু সরবরাহ সে তুলনায় বাড়েনি। এ ব্যবধান থেকেই মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত গতি তৈরি হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির গতি কমার পরিপ্রেক্ষিতে সুদহার ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। ২০২২ সালে কড়াকড়ি আর্থিক নীতির পথে যাওয়ার পর এবারই প্রথম সুদহার কমানো হলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ১-২ শতাংশে নেমে আসবে। তবে সরকার ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে।